পিচ্চি বউয়ের সংসার লেখিকা : সুমি আক্তার
পিচ্চি বউয়ের সংসার
লেখিকা : সুমি আক্তার
আমার নাম কামরুল ইসলাম ইথান। অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। বয়স মাত্র বাইশ, স্বপ্ন অনেক, প্রেমের কোনো রেকর্ড নেই—কিন্তু আজ আমার বিয়ে!
আর সেই বিয়ে হচ্ছে অজন্তা নামের এক মেয়ের সঙ্গে, যার বয়স মাত্র তেরো!
অজন্তা হচ্ছে আমার রুমানা আন্টির মেয়ে—আমার মায়ের শৈশবের পুতুল-খেলার সঙ্গী। শৈশবে ওরা যেমন পুতুলের বিয়ে দিত, আজ তেমনই নাকি বাস্তবে আমাদের বিয়ে!
আমি প্রথমে বিয়েতে রাজি ছিলাম না। কারণ, ইউনিভার্সিটির একজন স্টুডেন্ট হয়ে ক্লাস এইটের মেয়েকে বিয়ে? অসম্ভব! কিন্তু মা একদিন কলেজে এসে আমাকে এক বান্ধবীর সাথে আড্ডা দিতে দেখে ঠিক করলেন—আমার নাকি প্রেম আছে। আর সেই সন্দেহ মেটাতে গিয়েই এই তাড়াহুড়ো করে বিয়ের আয়োজন।
আমার পালানোর অনেক পরিকল্পনা ছিল, কিন্তু কোথায় পালাবো? ঠিক তখনই রুমানা আন্টির ফোন—
— "কি জামাই বাবাজি, কেমন আছো?" (রুমানা আন্টি)
আমি চুপ।
— "অজন্তা তোমার সাথে কথা বলবে।"
ফোনে কচি কণ্ঠ—
— "হ্যালো ইথান ভাইয়া, কেমন আছেন?"
আন্টি সঙ্গে সঙ্গে ধমক দিলেন— "ভাইয়া কি? আজ থেকে জামাই বলবি!"
অজন্তা গলা বদলে বলল— "ওগো শুনছেন?"
— "এই সব ভালো লাগে না!" আমি বিরক্ত।
— "আমারও ভালো লাগে না… শুনলেন তো, মা কেমন করছে?"
— "আচ্ছা, বলো কেন ফোন করেছো?"
— "আপনার ফোনে গেমস আছে? বিয়ের পর ফোন ধরতে দিবেন? আব্বু আম্মুর মতো বকা দিবেন না তো?"
— "দিবো…" আমি অনিচ্ছা সত্ত্বেও বললাম।
— "আর কার্টুন ডাউনলোড দিবেন, প্লিজ?"
মনে মনে বলি— আল্লাহ বাঁচাও!
বিয়ের দিন
অজন্তাদের বাসায় তেমন সাজসজ্জা হয়নি—ছোট বলে নাকি ঝামেলা হতে পারে। আমি তার রুমের দিকে গেলাম। সাজঘরে ঢুকেই দেখি—সে যেন পুতুলের মতো সাজানো।
— "অজন্তা, তুমি রাজি? নাকি জোর করে রাজি করিয়েছে?"
— "আমি রাজি! পড়াশোনা ভালো লাগে না, সামনে জেএসসি…"
আমি হাঁ হয়ে গেলাম।
— "আমি বিয়ে করতে চাই না।"
— "তাহলে আমার গেমস খেলার কি হবে? আর কার্টুন?"
আমি গোপনে বললাম—
— "আমাকে পালাতে সাহায্য করো। মোবাইল তোমাকে দিয়ে যাচ্ছি, যা ইচ্ছা করো।"
সে উচ্ছ্বসিত—
— "আসেন ভাইয়া, ব্যালকনি দিয়ে নামা যায়।"
আমি নিচে নামতে যাচ্ছি, ঠিক তখনই ঘাড়ে শক্ত করে হাত! ঘুরে দেখি—অজন্তা।
— "ঘাড় ধরলা কেন?"
— "চার্জার কই?"
আমি বিরক্ত হয়ে টাকা দিয়ে বললাম— "নিয়ে নাও।"
সে মুচকি হেসে বলল— "কিন্তু বিয়ে করলে কেউ আমার ফোন নেবে না… তাই আগে আগে চলেন!"
শেষ পর্যন্ত সেই পিচ্চির হুমকিতে বিয়েই হয়ে গেল।
বিয়ের রাত
আমার রুম ফুলে সাজানো। আমি ভেবেছিলাম—প্রথম রাত কিছুটা তো রোম্যান্টিক হবে। কিন্তু দেখি, অজন্তা গেমস খেলছে! কিছুক্ষণ পর কার্টুন চালিয়ে দিল। বিরক্ত হয়ে আমি বালিশ নিয়ে ফ্লোরে ঘুমিয়ে পড়লাম।
রাত ১টার দিকে ঘুম ভাঙল। দেখি, অজন্তা ঘুমিয়ে আছে, কিন্তু ফোন বুকের উপর। স্ক্রিনের আলো তার মুখে পড়ছে। কাছে গিয়ে দেখি—তার ঠোঁটের কোণ দিয়ে সাদা কিছু বের হচ্ছে… তারপরই খিঁচুনি শুরু হলো!
(নেক্সট পর্বে জানা যাবে—অজন্তার আসলে কি হয়েছিল!)
