✨ গল্পঃ তুমি_শুধু_আমারই_হও


✨ গল্পঃ তুমি_শুধু_আমারই_হও


পর্বঃ ১

লেখিকা : সুমি আক্তার

কলেজের মাঠটা আজ যেন অন্য রকম কোলাহলে ভরপুর। খেলাধুলা, আড্ডা, হাসি—সব মিলিয়ে চারপাশটা সরগরম। হঠাৎ সেই কোলাহল ভেদ করে এক অপ্রত্যাশিত দৃশ্য সবার চোখ কেড়ে নিলো।


আদি—যে ছেলেটাকে সবাই চেনে ভদ্র, মার্জিত আর মেয়েদের প্রতি অতিরিক্ত সম্মান দেখানোর জন্য—সে হঠাৎ সবার সামনে অনুর গালে জোরে একটা থাপ্পড় বসিয়ে দিল।

মুহূর্তের মধ্যে পুরো মাঠ নিস্তব্ধ হয়ে গেল।


অনুর চোখে অঝোরে পানি ঝরতে লাগলো। বুক ভরা কষ্ট নিয়ে কাঁপা কণ্ঠে বললো,

—“আমার তো কোনো ভুল ছিল না আদি ভাইয়া… তুমি কিছু না শুনেই আমাকে মারলে? এটাই তোমার ভালোবাসা?”


আদির ঠোঁট শক্ত হয়ে গেল। সে শুধু ছোট্ট করে বললো,

—“যা… ক্লাসে যা।”


কোনো উত্তর না দিয়ে অনু দৌড়ে চলে গেল।



---


ক্লাসরুমে


অনু একেবারে ভেঙে পড়েছিল। মনে মনে নিজেকেই দোষারোপ করতে লাগলো।

“কি দোষ ছিল আমার? আমি তো কিছুই করিনি। কেনো এমন হলো?”


কিছুক্ষণ আগের ঘটনাটা মনে পড়তেই চোখ আবার ভিজে উঠলো। মাঠ দিয়ে যাচ্ছিল সে, তখন কয়েকজন ছেলেপেলেই বাজে কথা ছুঁড়ে দিল। লজ্জা আর ক্ষোভে মুখ শুকিয়ে গেল তার। ঠিক তখনই আদি এসে হাজির।


অনুর মুখের কষ্ট দেখে আদির মাথায় যেন আগুন ধরলো। কোনো কিছু না ভেবেই গিয়ে এক ছেলেকে থাপ্পড় মেরে বসল সে। তাতে উল্টো ছেলেটা অনুর ওড়না ধরে টান দিল। মুহূর্তের মধ্যেই আদি ঝাঁপিয়ে পড়লো তার ওপর। এলোপাতাড়ি ঘুষি, লাথি—শেষমেশ আধমরা করে ছেড়ে দিল।


কিন্তু তখনকার রাগের ঝাঁজেই যেন সে অনুর দিকেও হাত তুলেছিল।

অনু কিছু বলার আগেই সজোরে একটা থাপ্পড় মেরে ফেললো—যেটা আজও অনুর বুক চিরে ব্যথা হয়ে বয়ে যাচ্ছে।


ভাবনায় ডুবে থাকা অনুর পাশে এসে বসল ওলি। মৃদু কণ্ঠে বললো,

—“সরি দোস্ত… আমি যদি আগে আসতাম, এমনটা হতো না।”

অনু চোখ মুছে ছোট্ট করে বললো,

—“তোর কোনো দোষ নাইরে… চল, স্যার আসছে।”



---


বাড়ি ফেরা


ক্লাস শেষে অন্যদিনের মতো আদিকে কোথাও খুঁজে পাওয়া গেল না। অনুর বুক হু হু করে উঠলো।

“প্রতিদিন তো আমার জন্য ওয়েট করে… আজ কেনো নেই?”


মলিন মুখে বাড়ি ফিরে দেখলো মা—অনিতা চৌধুরী—দাঁড়িয়ে।

—“কিরে অনু, আদি কই?”

অনু কষ্ট সামলে বললো,

—“মা, ভাইয়া নাকি দেরি করবে… তাই আমি আগে চলে আসছি।”

—“আচ্ছা, ফ্রেশ হয়ে আয়, খাবার দিচ্ছি।”


ফ্রেশ হয়ে টেবিলে এসে অবাক হয়ে দেখলো—আদি তো আগেই খাচ্ছে! অথচ কোনোদিন সে অনুকে ফেলে আগে বসে না।


আইশা চৌধুরী ডাক দিলেন,

—“কিরে অনু, আয় খেতে।”

—“জি বড় মা।”


কিন্তু পুরো সময়টাতে আদি একবারও অনুর দিকে তাকালো না। একফোঁটা কথাও বললো না। অনুর বুকের ভেতরটা যেন ভেঙে গেল।

“আমার কপালে মনে হয় কেবলই দুঃখ লেখা আছে।”



---


রাতের বারান্দা


খাওয়া শেষে অনু একা বারান্দায় দাঁড়িয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে ছিল। চোখে জল, মনে কষ্ট। হঠাৎ পেছনের দরজা খুলে গেল। কে এসেছে বুঝে ওঠার আগেই তাকে শক্ত করে টেনে নিলো আদি।


মুহূর্তের মধ্যেই আদির ঠোঁট চেপে বসলো অনুর ঠোঁটে। অনু হতভম্ব। সমস্ত শক্তি দিয়ে মুচড়িয়ে মুক্ত হওয়ার চেষ্টা করলো। কিন্তু আদির শক্ত বাহুর বাঁধন ভাঙা অসম্ভব।


প্রায় পাঁচ মিনিট পর আদি তাকে ছেড়ে দিল। অনু হাঁপাচ্ছিল, চোখ ভরা অশ্রু।

আদি গম্ভীর কণ্ঠে বললো,

—“অনু, আমার কাজে বাধা দিলে এর থেকেও খারাপ কিছু হবে। আর আজ থেকে মনে রেখো, তুমি যদি কোনো ছেলের সঙ্গে কথা বলো… তবে এরচেয়ে খারাপ কিছু ঘটবে।”


আদির চোখে ভয়ঙ্কর ঝলক। অনু নিঃশব্দে দাঁড়িয়ে রইলো। বুকের ভেতর কেবল একটা শব্দ বাজছিল—“আমি কি তবে কেবলই বন্দি?”



---


চলবে…


 

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url

Telegram

Join Our Telegram Channel!

আরো নতুন নতুন চটিগল্প পেতে আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে যুক্ত হন। Tap below to join instantly!

Join Now
sr7themes.eu.org
🎉 প্রথমবার আমাদের সাইটে?

🎉আপনার জন্য $5 ফ্রি 💵 , simply click on below links. 👉 এখনই ক্লেইম করুন এবং উপভোগ করুন! 🚀, we don't sell anything. Thanks in advance for being with us.