অণুগল্প: পরীর মতো বউ
অণুগল্প: পরীর মতো বউ
✍️ লেখিকা : সুমি আক্তার
বউটা টানা দুইদিন ধরে না খেয়ে আছে। কারণ জানতে চাইতেই ওর মুখ থেকে যা শুনলাম, মনে হলো মেয়াদোত্তীর্ণ গাঁজা খেয়ে বসে আছি!
— “ভাইয়া, তুমি সেদিন আমাকে চুমু দিয়েছিলে, তাহলে তো আমি এখন প্রেগন্যান্ট হওয়ার কথা। কিন্তু আমার মাথা তো ঘুরছে না, মুখে অরুচিও লাগছে না, বমি বমি ভাবও নেই কেন?”
শুনে আমি মাথা ধরে বসলাম। চুমু খেলে নাকি কেউ প্রেগন্যান্ট হয়ে যায়! এ কোন শয়তান শালা আমার পিচ্চি বউটার মাথায় এইসব ভুয়া জ্ঞান ঢুকিয়েছে?
আমি শান্ত গলায় বললাম,
— “ঠিক আছে, কিন্তু তুমি খাওয়া বন্ধ করলে শরীর খারাপ হবে তো।”
— “না, আমি খাব না। প্রেগন্যান্ট হলে মুখে অরুচি হয়, তখন টক খেতে হয়।”
— “তোমার তো অরুচি হয়নি, তাহলে খেয়ে নাও।”
— “নাহ, খাব না। আর আমার অরুচি কেন হলো না জানো? তুমি সেদিন আমাকে ঠিকমতো চুমু দাওনি, এজন্য হচ্ছে।”
এবার মাথায় হাত! বুঝাই কিভাবে যে চুমু দিয়ে কেউ মা হয় না!
ও আবার ফিসফিস করে বললো,
— “তাহলে এখনই আমাকে আবার চুমু দাও, এবার ঠিকমতো। নইলে আমি কখনো প্রেগন্যান্ট হব না।”
এই সুযোগ কি আর হাতছাড়া করা যায়? সেদিন আশেপাশে মানুষ ছিল বলে দ্বিধা ছিল। আজ রুমে একা একা, তাই কোনো দেরি না করে ওকে জড়িয়ে ধরে ঠোঁটে দীর্ঘ চুমু দিলাম। প্রায় পাঁচ মিনিট পর দুজনেই হাঁপাতে হাঁপাতে থামলাম।
আমি মুচকি হেসে বললাম,
— “এবার হলো তো?”
— “হ্যাঁ, এখন হলো। তুমি মিষ্টি নিয়ে আসো।”
— “কেন?”
— “আরে! প্রেগন্যান্ট হলে তো সবাইকে মিষ্টি খাওয়াতে হয়। জানো না?”
আমি অবাক হয়ে তাকালাম।
— “তুমি প্রেগন্যান্ট কে বললো?”
— “এইভাবে যদি কোনো ছেলে চুমু খেত, সেও প্রেগন্যান্ট হয়ে যেত!”
বলে কি! ছেলেরাও নাকি প্রেগন্যান্ট হয়! মনে হচ্ছে এবার সত্যি হেমায়েতপুরে গিয়ে সিট বুক করতে হবে।
ও আবার ফিসফিস করে হুমকি দিলো,
— “যদি মিষ্টি না আনো, তাহলে আমি ফুফিকে সব বলে দেবো।”
অতঃপর কোনো উপায় না দেখে মিষ্টির দোকান থেকে মিষ্টি কিনে আনলাম। আম্মু আমাকে দেখে মুচকি হাসলেন, আর আমি লজ্জায় মাথা নিচু করে রুমে ঢুকে গেলাম। কিন্তু দেখি আমার পিচ্চি বউ মোবাইল হাতে খুশিতে নাচছে। মিষ্টির প্যাকেট কেড়ে নিয়ে সবাইকে জানিয়ে দিলো—
"আজ তার প্রেগন্যান্ট হওয়ার খুশিতে সবাই মিষ্টি মুখ করবে!"
---
দুই দিন পর…
সকালে ঘুম ভাঙতেই দেখি বউটা কান্না করছে।
— “সেদিন তুমি তো আমাকে ঠিকমতো চুমু দিয়েছিলে। তাহলে আমি এখনো প্রেগন্যান্ট হলাম না কেন?”
আমি আর হাসি সামলাতে পারলাম না। ওকে বুকে টেনে নিয়ে মাথায় হাত বুলিয়ে বললাম,
— “বোকা মেয়ে, ঠোঁটে চুমু দিলে কেউ প্রেগন্যান্ট হয় না।”
— “তাহলে কিভাবে হয়?”
— “তুমি এখনো ছোট, আগে বড় হও তারপর বলব।”
— “না না, এখনই বলো।”
— “তুমি বুঝবে না। আগে বড় হও।”
ও রাগ করে বললো,
— “তাহলে আমি ফুফিকে গিয়ে জিজ্ঞেস করছি!”
বলেই দৌড়ে বেরিয়ে গেলো। আমি তো সঙ্গে সঙ্গে শার্ট গায়ে দিয়ে বাসা থেকে পালালাম। জানি, আজ আর বাঁচা যাবে না।
---
শেষ কথা
পরীর মতো একটা বউ পেয়ে কী আনন্দে ছিলাম, কিন্তু দিনশেষে এই “পরী” ডাইনির মতো আমাকে লজ্জায় ফেলে দেয় প্রতি মুহূর্তে। শালা, এমন বউ যেন কারো কপালে না জোটে!
