স্বপ্নছোঁয়া


 


🌸 স্বপ্নছোঁয়া


✍️ লেখাঃ সুমি আক্তার

📖 পর্বঃ ১


পেছন থেকে হঠাৎ কোমরটা শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো আদিত্ব। ধীরে ধীরে তার হাত গ্লাইড করতে লাগলো মোহনাকে ঘিরে। কাঁধে ঠেকানো থুতনি, আর নগ্ন পেটে হাতের আলতো স্পর্শে মোহনা জমে গেলো পাথরের মতো। যেন নড়ার শক্তিটুকুও হারিয়ে ফেলেছে সে।


চুলগুলো সরিয়ে আদিত্ব নরম করে চুম্বন করলো ঘাড়ে। মুহূর্তের মধ্যে শিরা-উপশিরা জুড়ে এক অচেনা শিহরণ ছড়িয়ে গেলো। মোহনা নিস্তব্ধ, অথচ ভেতরে দাউ দাউ করে জ্বলছে অনুভূতির আগুন।


ছাদে দাঁড়িয়ে আছে দুজন। আকাশে জমে থাকা মেঘ থেকে বৃষ্টির ফোঁটা আছড়ে পড়ছে তাদের গায়ে। বৃষ্টিভেজা মোহনাকে ঘুরিয়ে নিজের দিকে মুখোমুখি করলো আদিত্ব। তার মুখে ঝরে পড়া ভেজা চুলগুলো আঙুল দিয়ে আলতো করে সরিয়ে দিলো। তারপর হঠাৎ পেছন থেকে মুঠো করে চুল ধরে কাছে টেনে নিলো সে। ধীরে ধীরে এগিয়ে এলো গোলাপি ঠোঁটের দিকে—


এক মুহূর্তে ঠোঁট দুটো দখল করে নিলো আদিত্ব।

ঠিক তখনই আকাশে বিকট শব্দে বজ্রপাত হলো!


চমকে উঠে বড় বড় নিশ্বাস নিতে লাগলো মোহনা। চারপাশে তাকিয়ে বুঝলো— সবই স্বপ্ন ছিলো!

কিন্তু শরীরটা ভিজে ভিজে লাগছে কেন?


পাশে তাকিয়ে দেখে ছোট ভাই মোহন দাঁড়িয়ে আছে, হাতে অর্ধেক ভরা পানির গ্লাস। টেবিলে রাখা তিনটে খালি গ্লাসও নজরে এলো। বুঝতে বাকি রইলো না— মোহন একটার পর একটা গ্লাস ঢেলে তাকে ভিজিয়েছে।


— “এই লাড্ডু, এভাবে পানি মেরে ভিজালি কেন?” (মোহনা)

— “দেখো আপু, আমার একটা নাম আছে। আমি হালকা মোটা বলে আমাকে এভাবে অপমান করতে পারো না।” (মোহন)

— “পানি মেরে সব ভিজিয়ে দিলে, উল্টা তেজও দেখাচ্ছিস?”

— “কতক্ষণ ধরে ডাকছি, উঠছই না। পানি ঢেলে যাচ্ছি, তাও ঘুমাচ্ছো মরে পড়ে। উল্টা ঘুমের মধ্যে মুচকি মুচকি হাসছো… আচ্ছা, তুই ঘুমের মধ্যে কার সাথে কথা বলছিলি?”


মোহনা এবার জিভ কামড়ে চুপ। আল্লাগো! তাহলে সব শুনে ফেললো নাকি মোহন?

— “আমি কিন্তু সব শুনেছি আপু। এখনই গিয়ে আদিত্ব ভাইয়াকে বলে দেবো।”


মোহনা তড়িঘড়ি করে ভাইকে মানানোর চেষ্টা করলো। এক প্যাকেট চকলেটের বিনিময়ে অবশেষে মোহন ‘গোপনীয়তা রক্ষা’র শর্তে রাজি হলো।


ফ্রেশ হয়ে আয়নার সামনে বসে চুল আচড়াতে লাগলো মোহনা। মনে পড়তেই ঠোঁটে ফুটে উঠলো লাজুক হাসি। হাত দিয়ে মুখ ঢেকে ফেললো। কতটা কাছে চলে এসেছিলো আদিত্ব! ধুর, ওই লাড্ডুর জন্য সব মাটি হয়ে গেলো। এখন আবার গোটা এক প্যাকেট চকলেট গুণতে হবে।


মোহনা আয়নার দিকে তাকিয়ে মনে মনে বললো—

“মি. আদিত্ব, আমার স্বপ্ন এবার বাস্তব হবেই। যতই আমাকে দূরে ঠেলো না কেন, আমি তোমার ছায়ার মতো পিছনে থাকবো। আমার মিশন শেষ না করা পর্যন্ত ছাড়বো না।”


এদিকে হাতে কফির কাপ নিয়ে ছাদে দাঁড়িয়ে গার্লফ্রেন্ড তৃষ্ণার সঙ্গে ফোনে গল্প করছে আদিত্ব। দূর থেকে সেটা দেখে থমকে গেলো মোহনা। তার হাতে রাখা অতিরিক্ত কফির কাপ ঠাণ্ডা হয়ে এলো। মনে মনে বললো—

“এখন নয়, কিন্তু একদিন তোমাকে আমি আমার করে নেবই, আদিত্ব। সেদিন প্রমাণ হবে, ভালোবাসা কোনো কাগজে লেখা চুক্তি নয়, এ এক অবিচ্ছেদ্য বন্ধন।”


সন্ধ্যায় পড়ার টেবিলে অনিকা, মোহনা আর মোহনকে পড়াচ্ছে আদিত্ব। কিন্তু মোহনা শুধু এক হাতে গালে ভর দিয়ে তাকিয়ে আছে তার দিকে। যেন পৃথিবীর সবচেয়ে মনোমুগ্ধকর দৃশ্য! অনিকার কাশিতে তার ধ্যান ভাঙলো। মোহন মুখ চেপে মিটিমিটি হাসছে।


রাতে ছাদের কর্নিশে দাঁড়িয়ে আছে আদিত্ব। পাশে গিয়ে দাঁড়ালো মোহনা। কিছুক্ষণ দ্বিধার পর আস্তে বললো—

— “ভাইয়া, আমি দেখতে কি খারাপ?”

— “কে বলছে তোকে? তুই দেখতে খুবই সুন্দর।”

— “তাহলে তুমি আমার অনুভূতিগুলো বোঝো না কেন? তুমি কি বুঝতে পারো না আমি তোমায় কত ভালোবাসি?”


আদিত্ব গম্ভীর চোখে তাকালো, তারপর ধীরে ধীরে বললো—

— “তুই সত্যিই একটা ছেছরা।”


কথা বলে ভেতরে চলে গেলো সে। খোলা আকাশের নিচে দাঁড়িয়ে দম বন্ধ করা দীর্ঘশ্বাস ফেললো মোহনা। ভালোবাসার মানুষটার মুখ থেকে এমন কথা শোনা কষ্টের, তবুও সে মনে মনে প্রতিজ্ঞা করলো—

“যদি ছেছরামি করেই তোমায় পাওয়া যায়, তবে আমি হাজারবার ছেছরা হতে রাজি।”


পরের দিন সকালের নাশতার টেবিলে সবাই বসেছে। মোহনাদের বাবা হঠাৎ বলে উঠলেন—

— “ভাইজান, আমাদের মেঘলার ছেলে শ্রাবন আগামী মাসে দেশে ফিরছে। ও ফিরলেই মোহনাকে ওর সঙ্গে বিয়ে দিয়ে দেবো।”


কথাটা শোনামাত্রই মোহনাকে মনে হলো আকাশ ভেঙে পড়লো মাথার উপর। চুপচাপ উঠে দৌড়ে চলে গেলো নিজের ঘরে। আদিত্ব মুখ গম্ভীর করে চুপচাপ খেতে থাকলো। তবে তার চোখের গভীরে যে ঝড় বইছে, তা কেউ খেয়াল করলো না।


সন্ধ্যায় বেলকনিতে দাঁড়িয়ে চুপচাপ কান্না করছিলো মোহনা। এদিকে অনেক রাত অবধি বাইরে থেকে ফিরে ফ্রেশ হয়ে মোহনাকে দেখতে তার ঘরে এলো আদিত্ব।


ঠিক তখনই…

মোহনা লম্বা সময় ধরে স্নান শেষে টাওয়াল পেঁচানো ভেজা শরীর নিয়ে বের হলো। সামনে দাঁড়িয়ে আছে আদিত্ব।


দুজনার চোখে চোখ পড়লো…

বাতাস যেন থেমে গেলো।


চলবে…


Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url

Telegram

Join Our Telegram Channel!

আরো নতুন নতুন চটিগল্প পেতে আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে যুক্ত হন। Tap below to join instantly!

Join Now
sr7themes.eu.org
🎉 প্রথমবার আমাদের সাইটে?

🎉আপনার জন্য $5 ফ্রি 💵 , simply click on below links. 👉 এখনই ক্লেইম করুন এবং উপভোগ করুন! 🚀, we don't sell anything. Thanks in advance for being with us.